বার্তা পরিবেশক:
টেকনাফ আল জামিয়া আল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস ও প্রধান পরিচালক এবং আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক পটিয়ার ইত্তেহাদে ফিরে গেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেকনাফ জামিয়ায়
আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কল্পলোক অফিস), চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার ধাউনখালী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের নেতৃত্বে আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস চট্টগ্রাম (কল্পলোক অফিস) বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কেরামের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মাওলানা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিকের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়কালে দ্বীনি শিক্ষা, ওলামায়ে কেরামের পারস্পরিক ঐক্য, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং জেলার বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় মাওলানা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিকের সঙ্গে আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ ( কল্পলোক অফিস) এর কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আলোচনা শেষে মাওলানা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক জানান, তিনি আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কল্পলোক অফিস), চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অধীনেই আছেন এবং থাকবেন। তাকে এবং টেকনাফের মাদরাসাগুলোকে পটিয়ার ইত্তেহাদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সত্য নয়।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাওলানা মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিকসহ টেকনাফের বিভিন্ন মাদরাসা পটিয়ার ইত্তেহাদে ফিরে গেছে—এমন দাবি করে একটি পোস্ট ও ভয়েস রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে শনিবারের মতবিনিময়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মতবিনিময়ের একপর্যায়ে মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিকের ইলমি অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তাকে আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন কক্সবাজারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মূলনীতিনির্ধারক হিসেবে থাকার পরামর্শ দেন।
এ সময় মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তিনি একা নন; কক্সবাজার জেলার ওলামায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে ইত্তেহাদ, সম্মেলন ও হেফাজতের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করবেন, ইনশাআল্লাহ।
সাক্ষাতের সময় সাম্প্রতিক ভাইরাল অডিও ক্লিপ নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক জানান, অডিওটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আদান-প্রদান করেছিলেন; এটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে ছিল না। অসতর্কতার কারণে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। তিনি অডিওটির বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন বলেও জানান।
সভায় উপস্থিত ওলামায়ে কেরাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট, অডিও বা অন্য কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় জামেয়া ইসলামিয়া চাকমারকুলের মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, রামু মাজহারুল উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হারুণ, আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের মুফাত্তিশ মাওলানা শায়খ আখতার হোসেন, টেকনাফ লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা কারি শাকের, কক্সবাজার লাইট হাউস মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুহাম্মদ আলী, টেকনাফ আনস বিন মালেক মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শফিউল্লাহ জমিরী, থাইংখালি দারুত তাহযিব মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবাদুসাত্তার, ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ এর অফিস সেক্রেটারি মাওলানা সাঈদুল হক সহ বিভিন্ন মাদরাসার মুহতামিম ও শিক্ষক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর চাকমারকুল মাদরাসায় আহূত বার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রস্তুতি সভায় অংশগ্রহণ এবং সম্মেলনের সফলতায় সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে মুফতি কিফায়ত উল্লাহ শফিক সম্মতি প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় শেষে কক্সবাজার জেলার ওলামায়ে কেরামের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বীনি কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।